আবার ঘোরতর সঙ্কটে পড়লেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি. তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা শুরুর নির্দেশ দিল পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট. ২২ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি. তবে পাক প্রধানমন্ত্রীকে সশরীরের আদালতে হাজির হতে হবে না বলে দাবি করেছেন সে দেশের সঞ্চারমন্ত্রী.
সোমবার আদালত অবমাননার দায়ে পাক-সুপ্রিম কোর্ট অভিযুক্ত করে পাক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানিকে. এর আগে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত শুরু করতে গিলানি সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল পাক সর্বোচ্চ আদালত. গিলানি সেই নির্দেশ মানেননি. মূলত গিলানিই হচ্ছেন প্রথম প্রধানমন্ত্রী যাঁকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত, আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করল. যদিও গিলানি সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন. তাঁর বক্তব্য, এই নির্দেশ কার্যকরী হলে আইন বিভাগ সাংবিধানিক কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পাবে. প্রেসিডেন্টের জন্য নির্দিষ্ট করা রক্ষাকবচও লঙ্ঘিত হবে বলে আদালতে ব্যাখ্যা দেন গিলানি. কিন্তু পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত তা খারিজ করে দিয়ে গিলানির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে. তাঁকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য আদালত ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছে. তার মধ্যে গিলানির আইনজীবীকে আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণ পেশ করতে হবে. 
গিলানি শুধু পাক সুপ্রিম কোর্টের এই অভিযোগকে অস্বীকার করেননি, এই রায়কে চ্যালেঞ্জও জানিয়েছেন. পাক প্রধানমন্ত্রীর আইনজীবী জানিয়েছেন, ১৭ তারিখের আগে প্রধানমন্ত্রী আদলতে হাজির হতে পারবেন না. ১৭ ফেবরুয়ারি অবধি তিনি বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকবেন. ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য আদালতে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিপক্ষের আইনজীবীকে. তবে পরবর্তী শুনানির দিন আদালতে গিলানির সশরীরে উপস্থিত থাকার কোনও প্রয়োজন নেই.
গিলানির বিরুদ্ধে এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চৌধুরী আহমেদ মুক্তার জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট চাইলে তাঁকে ক্ষমা করতে পারেন এবং একজন নতুন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করা হতে পারে. পাকিস্তানে প্রাক্তন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী তারিক আজিম জানিয়েছেন, আদালতের এই রায়ের পর প্রধানমন্ত্রী গিলানির উচিত্ নিজে থেকেই পদত্যাগ করা.প্র থমে গিলানিও বলেছিলেন, যদি সর্বোচ্চ আদালত তাঁকে আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করে তাহলে তিনি অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেবেন.







