নয়াদিল্লি: দিল্লির বাসিন্দা একুশ বছরের দীপু কুমার। প্রেমে পাগল হয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর প্রেমিকার সঙ্গে। বিয়ে করার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু পরে জানা যায়, প্রেমিকা এখনও সাবালিকা হননি। একজন নাবালিকাকে অপহরণ করার অপরাধে এবং তাঁকে জোর করে বিয়ে করতে চাওয়ার জন্য হয়তো জেলও হতে পারত তাঁর। কিন্তু এই অপরাধের এক অভূতপূর্ব রায় দিয়েছে দিল্লির একটি আদালত। দীপু কুমারকে গ্রেফতার করার পর পুরো একদিন তাঁকে আদালতকক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে তাঁকে হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেয় আদালত। কিন্তু একজন নাবালিকাকে অপহরণ ও জোর করে বিয়ে করতে চাওয়ার অপরাধে কেন এমন রায় দিল আদালত? এই অপরাধে তাঁর জেল অবধি হতে পারত।এ বিষয় অতিরিক্ত দায়রা বিচারক বীরেন্দ্র ভট্ট বিখ্যাত ইংরেজ কবি লর্ড খোয়েনকে উল্লেখ করে জানিয়েছেন, প্রেম কোনও যুক্তি, তক্কো মানে না হৃদয়। ছেলেটি কী ধরনের মানসিক অবস্থায় এই কাজ করেছেন সেটি তিনি স্পষ্ট বুঝতে পারছেন।
২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে দীপু কুমার তাঁর প্রেমিকাকে অপহরণ করে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। মেয়েটির বাড়ির থেকে এমনই অভিযোগ করা হয়েছিল। অবশ্য পুলিশের কাছে মেয়েটি ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। এও জানিয়েছে, দীপু কুমারকে সে-ই তাঁকে সঙ্গে নিয়ে পালানোর অনুরোধ করেছিল। পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার বুদ্ধিটি ছিল তারই। আদালত এও জানিয়েছে, শুধু একটি বিষয়ই মেয়েটি ভুল তথ্য দিয়েছিল তার প্রেমিককে। সেটি হল তার বয়স। প্রেমিককে সে বলেছিল, তার বয়স ১৯ বছর। কিন্তু তার তখনও আঠেরো বছর হয়নি। আদালত আরও বলেছে, ছেলেটির পক্ষে মেয়েটির কথা বিশ্বাস করা ছাড়া কোনও উপায় ছিল না। কারণ প্রেমে পড়লে যুক্তিবোধ কাজ করে না।







