মুম্বই: বাচ্চাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছিল। এমনকী মারাও হয় তাদের। এটা ক্ষমার অযোগ্য। এর ফলেই আমি মেজাজ হারাই। আমি কেন ক্ষমা চাইব? ক্ষমা চান মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা। বুধবার রাতে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে তাঁর সঙ্গে  এমসিএ কর্তাদের তীব্র গণ্ডগোল-বিতণ্ডা নিয়ে দেশজোড়া আলোড়নের মধ্যেই এদিন সাংবাদিক বৈঠকে পরিষ্কার এ কথা জানিয়ে দিলেন শাহরুখ খান।

পাল্টা তোপ দেগে তিনি এও বলেন, আমি মত্ত অবস্থায় ছিলাম না। আমার সঙ্গে ৩০টি বাচ্চা ছিল। আমার মেয়ের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করা হয়। সবটাই করা হয় নিরাপত্তার নামে। আমাকে গালিগালাজ করা হয়। বাধা দেওয়া হয় মাঠে ঢুকতে। বাচ্চারা ছবি তুলতে, মাঠে খেলতে চাইছিল। কিন্তু নিরাপত্তার নামে বাচ্চাদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করা হয়। একটা বাচ্চা মেয়েকেও ধাক্কা মারা হয়। আমি মানতে পারিনি। কোনও বাচ্চা যদি কোনও ভুলও করে থাকে, তাহলেও এরকম ব্যবহার করা উচিত নয়। আমি আমার অবস্থানে সঠিক। তার থেকে সরতেও নারাজ। আমি রেগে গিয়েছিলাম। তার ফলে কিছু বলে থাকতে পারি। আমি কিছু দেখাতে যাইনি। আমি জানি, জনসমক্ষে কী ব্যবহার করতে হয়। এমসিএ-র লোকজন হিংস্রভাবে আমার দিকে ছুটে আসছিলেন। বাচ্চাটিকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার প্রতিবাদ করি। কিন্তু মারাঠিতে অশ্রাব্য কিছু বলা হয়। আমি হিন্দি কথা বলতে বলি। ভদ্রলোকদের কাছ থেকে এমন ব্যবহার অনভিপ্রেত। আমরা তো অন্যায় কিছু করিনি। আমি খেলা দেখতে যাইনি। গিয়েছিলাম বাচ্চাদের মাঠ থেকে নিয়ে আসতে।

মুম্বই পুলিশ বৃহস্পতিবার বলেছে, গালিগালাজ, চিতকার এমনকী  এমসিএ কর্তাদের আঙুল উঁচিয়ে হুমকিও দিয়েছেন শাহরুখ খান। তবে তিনি ওয়াংখেড়ের ভিতরে ঢুকে মদ খাননি। মুম্বই পুলিশের এসিপি ইকবাল শেখ এদিন বলেন, শাহরুখ মত্ত অবস্থায় ছিলেন কি না, তা জানার জন্য কোনও মেডিক্যাল পরীক্ষা হয়নি। গতকাল রাতেই মেরিন ড্রাইভ থানায় এফাইআর হয় শাহরুখের নামে৷ এদিন তাঁর  বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেছে মুম্বই পুলিশ৷ আইপিএল চেয়ারম্যানের রাজীব শুক্ল বলেছেন, দুপক্ষের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ঘটনাটি নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত ক্রিকেট ও সিনেমা মহল। আর এক ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক বিজয় মাল্য বলেছেন, শাহরুখ আবেগপ্রবণ৷ ক্রিকেট ভালোবাসে৷ ঘটনার তদন্ত হোক। গতকাল রাতে সেমিফাইনালে ওঠার জয়োল্লাসের আধ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র বিতর্ক মাথা চাড়া দেয় শাহরুখকে ঘিরে। মুম্বইয়ের মাঠে কেকেআরের খেলা দেখতে আসেন না শাহরুখ। প্রথম বছরে এসে তীব্র অপমানিত হয়েছিলেন। তার পর থেকে তিনি খেলার পর হোটেলে প্লেয়ারদের সঙ্গে দেখে করতে আসেন। গত পাঁচ বছরে এই প্রথম কেকেআর মুম্বইয়ের মাঠে জেতার পর আনন্দে আত্মহারা কেকেআর মালিক জনা তিরিশেক বাচ্চা নিয়ে ওয়াংখেড়েতে ঢোকেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মোরানি ভাইরা। তখন রাত প্রায় সওয়া ১২টা। খেলা এবং পুরস্কার বিতরণ, দুই-ই শেষ হয়ে গিয়েছে। শাহরুখ চাইছিলেন, বাচ্চাদের নিয়ে টেনিস বলে মাঠের ভিতরে খেলবেন। এই সময় কিছু মুম্বই ইন্ডিয়ান্স সমর্থক তাঁর উদ্দেশে কটূক্তি শুরু করে। আর এমসিএ কর্তারা তাঁকে বলতে থাকেন যে, মাঠে ঢোকা যাবে না। এতগুলো বাচ্চা নিয়ে এখন মাঠে ঢোকার নিয়ম নেই। এতে তর্ক-পাল্টা তর্ক শুরু হয়। এমসিএ কর্তাদের দাবি, শাহরুখ তখন বলতে থাকেন, আমি মানি না এমসিএ-কে। উত্তেজিত কথোপকথনের সময় মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কিছু সাপোর্ট স্টাফও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। দু’পক্ষে কার্যত ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। উত্তেজিত হয়ে পড়েন শাহরুখ। এমসিএ কর্তাদের অভিযোগ, এ সময় শাহরুখ কিছু অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ করেছিলেন। আর তাঁর দেহরক্ষী দু’এক জনের গায়ে হাত তুলেছেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নাইট রাইডার্স মালিককে ওয়াংখেড়ে থেকে আজীবন নির্বাসিত করার দাবি তীব্র হয়েছে। ক্ষুব্ধ এমসিএ কর্তারা আগেই বলেছেন, শাহরুখের কাছে চিরদিনের জন্য ওয়াংখেড়ের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হোক। এমসিএ সভাপতি বিলাসরাও দেশমুখ এ নিয়ে আগামীকাল ক্রিকেট সংস্থাটির বৈঠক ডেকেছেন। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।